ভুক্তি সংখ্যা

২২১ টি

শব্দ খুঁজুন...
  • অকট– আশ্চর্য; বিস্ময়কর। প্রাচীন বাংলা বৌদ্ধগান ও দোহায় শব্দটির প্রয়োগ পাওয়া যায়। যেমন— “অকট করুণা ডমরুলি বাজঅ”, “অক্কট পণ্ডিঅ” (চর্যাপদ ৩১.২)। চর্যাপদের টীকায় শব্দটির অর্থ ‘আশ্চর্য’— “অকটেতি আশ্চর্য্যং”, “অক্কট ইত্যাশ্চর্য্যং”। ব্যুৎপত্তি: তুলনীয়—আকাট; বৌদ্ধ বাংলা।
  • অকটু– বিশেষ্য, অকটুতা; অকটুত্ব।। বিশেষণ, কটুতারহিত; অতিক্ত; স্বাদু; মধুর। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অকটু [ন = অ + কটু (নঞ্ তৎপুরুষ)।
  • অকটকিনা– বিশেষ্য, কঠোর নিয়ম বা কড়াকড়ির অভাব; বাঁধাধরা নিয়ম বা ধরাকাট না থাকার ভাব; অকঠোরতা; বাধাহীনতা; অবাধতা; অপ্রতিবন্ধ।। বিশেষণ, অকঠোর; অকঠিন; অকর্কশ; কোমল; নমনীয়। ব্যুৎপত্তি: আঞ্চলিক; তুলনামূলক হিন্দি কট্‌কনা; ওড়িয়া কটুকনা; হিন্দি কঠিনাঈ অর্থে কাঠিন্য, কড়াক্কড়। কটকিনা দ্রষ্টব্য।
  • অকটবিকট– বিশেষ্য, ভয় বা ত্রাসে মুখমণ্ডল ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বিকৃত ভঙ্গি; ভয়ে চট্‌পট করা বা ছটফটানি। ব্যুৎপত্তি: মূল আকৃতি-বিকৃতি > মধ্য বাংলা অকট-বিকট। প্রয়োগ: বিশেষ্য, ১ ত্রাসে চটপট অবস্থা – অকটবিকট করে পড়িয়া তরাসে। রাবণ জলের মধ্যে বালি ত আকাশে॥ – রামায়ণ, কৃত্তিবাস ওঝা।
  • অকঠিন– বিশেষ্য, অকঠিনতা; অকঠিনত্ব।। বিশেষণ, কঠিন্য নেই এমন; কোমল; সুকুমার; মৃদু। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন = অ + কঠিন (নঞ্)।
  • অকঠোর– বিশেষ্য, অকঠোরতা, অকঠোরত্ব।। বিশেষণ, ১ কঠোরতা নেই; অকঠিন; যে বস্তু শক্ত নয়। ২ (বিষয়াদি) দুরূহ নহে; সহজ; সরল; সুখবোধ্য। ৩ (বাক্য ইত্যাদি) উগ্র বা রুক্ষ নয়; অকর্কশ; কোমল। ৪ (হৃদয়, স্বভাব ইত্যাদি) সদয়; কোমল।। ৬ সংস্কৃত ন = অ + কঠোর – নঞ্ তৎপুরুষ সমাস।
  • অকড়িয়া– যার কড়ি নেই; যা কড়ি বা অর্থ দিয়ে কেনা নয়। বিশেষণ, ১ যার কড়ি নাই; ধনহীন; দরিদ্র। ২ ২ কড়ি দিয়ে কেনা নয়; অর্থ দিয়ে কেনা নয়; মূল্যহীন। ব্যুৎপত্তি: বাংলা ন = অ + কড়িয়া (কড়ি-যুক্ত) = ধনী।অভিধান খুঁজুন
  • অকণ্টক– যাতে কণ্টক নেই; যার কোন কণ্টকরূপ শত্রু নেই। বিশেষণ, ১ কণ্টকরহিত; কণ্টকহীন; নিষ্কন্টক; কাঁটাশূন্য; যাতে কণ্টক নেই। ২ [আলঙ্করিক] (শত্রু কণ্টক স্বরূপ ক্লেশকর বলে) শত্রুহীন; শত্রু রহিত; নিঃশত্রু; নিষ্কণ্টক; নিরাপদ; নিরুপদ্রব; নির্বিঘ্ন; কণ্টকতুল্য ক্লেশকরবস্তুহীন।। ক্রিয়াবিশেষণ, অকণ্টকে। প্রয়োগ: বিশেষণ, ১ কাঁটাশূন্য – পথ অকণ্টক করা। অকণ্টক ভুজমৃণাল।। ২ শত্রুহীন – স্বোপার্জিত সম্পদকে অকণ্টক রাখতে হয়। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন = অ-কণ্টক (কাঁটা) যাতে– বহুব্রীহি সমাস; স্ত্রীলিঙ্গ, অকণ্টকা।
  • অকণ্টকে– ক্রিয়াবিশেষণ, নির্বিঘ্নে; নিরাপদে; অবাধে; বাধাবিপত্তি ছাড়া; শত্রুহীনভাবে। প্রয়োগ: ১ অকণ্টকে রাজ্য ভোগ। – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
  • অকণ্টকবিদ্ধ– বিশেষণ, কাঁটাবিদ্ধ নয় এমন; যার গায়ে কাঁটা ফোটেনি; কাঁটার আঘাত থেকে অক্ষত। প্রয়োগ: বিশেষণ, ১ অকণ্টকবিদ্ধ কি জানে কাঁটা-ফুটা বল্যে। – শিবায়ন। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অ + কণ্টক + বিদ্ধ।
  • অকণ্ঠস্থ– যা কণ্ঠস্থ বা মুখস্ত করা হয়নি। বিশেষণ, ১ প্রকৃতপক্ষে যা কণ্ঠে ধারণ করা বা যা কণ্ঠাগত হয় নি। ২ মুখস্থ করা নয়; মুখস্ত করা হয়নি। ৩ অনভ্যস্ত। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন = অ-কণ্ঠ + স্থা + অ (কর্তৃবাচ্য)।
  • অকত্থন– যে ব্যক্তি নিজের গুণ বা কৃতিত্ব নিয়ে অহঙ্কার করে না, নিজেকে অন্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলে প্রচার করে না এবং আত্মপ্রশংসার মাধ্যমে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায় না, তাকে অকত্থন বলা হয়। শব্দটি বিশেষত বিনয়ী, নিরহংকার ও আত্মপ্রচারবিমুখ ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য বোঝাতে প্রযোজ্য। বিশেষণ, ১ আত্মশ্লাঘাহীন; আত্মপ্রশংসা করে না এমন; নিজের গুণ, কৃতিত্ব বা সাফল্য নিয়ে গর্ব করে না এমন। ২ নিরহংকার; অগর্ব; বিনয়ী; আত্মম্ভরিতাহীন। ৩ নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে অনিচ্ছুক; আত্মপ্রচারে বিমুখ। ৪ নিজের কৃতিত্ব বা গুণের কথা অন্যের কাছে বলে বেড়ায় না এমন; আত্মপ্রশংসাপরায়ণ নয় এমন। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অ + কত্থন; অ (নঞর্থক উপসর্গ) + কত্থন (আত্মশ্লাঘা, আত্মপ্রশংসা) = অকত্থন; অর্থাৎ আত্মশ্লাঘা বা আত্মপ্রশংসা নেই এমন।
  • অকথা– বিশেষণ, ১ কুকথা; কুৎসিত কথা; অশ্লীল কথা; যে কথা মুখে আনা যায় না বা বলতে লজ্জা হয়; অশিষ্ট বাক্য; অনুচিত কথা। ২ অকথিত। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন = অ (কুৎসিত)-কথা।
  • অকথিত– বিশেষণ, ১ যা বলা হয়নি; অনুক্ত; অব্যক্ত। ২ যা উচ্চারণ করা হয়নি; অনুচ্চারিত। ৩ (ব্যাকরণ) যে কারক অর্থের অবিবক্ষা বা অপ্রধানতা নির্দেশ করে; অপাদানাদি কারক দ্বারা অবিবক্ষিত, অর্থাৎ বাক্যে গৌণ বা অপ্রধানভাবে অভিপ্রেত কারক। — পাণিনি ১.৪.৫১। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত, অ + কথিত; অ (নঞর্থক উপসর্গ) + কথিত (√কথ্‌ ধাতু + ক্ত প্রত্যয়) = অকথিত; অর্থাৎ যা বলা হয়নি। অর্থব্যাখ্যা: সাধারণ অর্থে ‘অকথিত’ বলতে এমন কথা বা বিষয় বোঝায়, যা প্রকাশ্যে বলা বা উচ্চারণ করা হয়নি। ব্যাকরণে শব্দটির বিশেষ অর্থ রয়েছে: কোন ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত কারক যখন মুখ্যভাবে বিবক্ষিত বা অভিপ্রেত হয় না, তখন তা অকথিত কারক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পাণিনির অকথিতং চ (১.৪.৫১) সূত্রে এই পারিভাষিক অর্থের উল্লেখ আছে।
  • অকথন– বিশেষ্য, কুকথা; অন্যায়োক্তি।। বিশেষণ, যার কথন নেই, অর্থাৎ যা বলে প্রকাশ করা যা না; কথনের অযোগ্য; অবক্তব্য; অকথা।। ৩ সংস্কৃত ন = অ (অনুচিত)-কথন (কথা)। প্রয়োগ: বিশেষণ, ১ অকথা – অকথন বেয়াধি এ, কহা নাহি যায়। যে করে কানুর নাম ধরে তার পায়॥ – চণ্ডীদাস।
  • অকথনীয়– বিশেষণ, ১ যা বলা উচিত নয়; বলার অনুপযুক্ত; অনুচিতভাবে প্রকাশযোগ্য নয় এমন। ২ যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না; অনির্বচনীয়; অবর্ণনীয়। ৩ যা বলা বা বর্ণনা করা কঠিন; ভাষায় যথাযথভাবে ব্যক্ত করা অসম্ভব এমন। ৪ যা প্রকাশ করা শোভন নয় বা লোকসমক্ষে বলা সমীচীন নয়; অকথ্য। ৫ [স্ত্রীলিঙ্গ] অকথনীয়া। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন = অ-কথনীয় (বলার উপযুক্ত, বক্তব্য); অ (নঞর্থক উপসর্গ) + কথনীয় (কথ্‌ ধাতু + অনীয় প্রত্যয়) = অকথনীয়। অর্থাৎ যা কথনের উপযুক্ত নয় বা কথায় প্রকাশ করা যায় না। কথনীয় দ্রষ্টব্য। টীকা: ‘অকথনীয়’ শব্দটি প্রসঙ্গভেদে দুটি প্রধান অর্থে ব্যবহৃত হয়— (ক) যা বলা উচিত নয় বা বলা অনুচিত; (খ) যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। প্রথম অর্থে ‘অকথ্য’ এবং দ্বিতীয় অর্থে ‘অনির্বচনীয়’ বা ‘অবর্ণনীয়’ কাছাকাছি অর্থের শব্দ।
  • অকথ্য– বিশেষণ, ১ যা বলা উচিত নয়; বলার অযোগ্য; অকথনীয়; অবাচ্য; অনুচ্চার্য; অশ্লীল বা অশিষ্ট (ভাষা)। ২ যা কথায় প্রকাশ করা যায় না; অনির্বচনীয়; অবর্ণনীয়; বর্ণনাতীত; বাক্‌-অতীত। ৩ যা বলা বা প্রকাশ করা যায় না, অথচ বলার প্রয়োজন হয়; অব্যক্তপ্রায়; দুর্বর্ণনীয়। ৪ যা বলার নয়, অর্থাৎ অত্যন্ত দুঃখকর বা মর্মান্তিক। ৫ বিশেষ্যার্থে প্রয়োগ— হিতকর নয় এমন কথা; দুর্বাক্য; অনর্থক বা নিষ্ফল বাক্য। প্রয়োগ: বিশেষণ, ১ অকথনীয় – অকথ্য কথন দেবি ক্রোধ হইলে বলে। – মহাভারত, কাশীদাস। ২ অবর্ণনীয় – অকথ্য বেদনা সেই কথা নাহি যায়। – চণ্ডীদাস। ৩ অবর্ণনীয় – কহিতে অকথ্য কথা না যায় বর্ণন। – বঙ্গসাহিত্য-পরিচয়। ৪ অবর্ণনীয় – শচী-দুঃখ অকথ্য কথন। – চৈতন্যভাগবত। ৫ অব্যক্ত – তোমরা যে জিজ্ঞাসিলা এ বড় রহস্য। যদ্যপি অকথ্য তভো কহিব অবশ্য। – চৈতন্যভাগবত। ৬ বর্ণনাতীত – অকথ্য অদ্বৈত অনিত্য-রহিত অনন্তরূপধারিণী। ৭ মর্মান্তিক; দুঃখকর – অকথ্য আমার কথা, সায় সদাগর পিতা, নাম মোর বেহুলা নাচনী। – মনসার ভাসান, ক্ষেমানন্দ দাস।। ৮ যা বলা যায় না – আমার এ কথা অকথ্য। – লুপ্তরত্নোদ্ধার। ব্যুৎপত্তি: অকথ্য সংস্কৃত ন = অ-কথ্য।
  • অকথ্যকথন– বিশেষ্য, ১ যা বলা উচিত নয়, এমন কথা বলা বা ব্যবহারের প্রবণতা; অশ্লীল ভাষার প্রয়োগ; কুকথা; গালিগালাজ; অশিষ্ট ও অশালীন বাক্যপ্রয়োগ। ২ অদ্ভুত বা আশ্চর্য কথা। ৩ [স্ত্রীলিঙ্গ] অকথ্য-কথনা।। বিশেষণ, যার বর্ণনা কথার অতীত; অবর্ণনীয়; বর্ণনাতীত; অনির্বচনীয়। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অকথ্য + কথন; অকথ্য (যা বলা উচিত নয়) + কথন (বলা বা উক্তি) = অকথ্যকথন; অর্থাৎ অনুচিত, অশ্লীল বা অশিষ্ট কথা বলা। প্রয়োগ: বিশেষ্য, ১ আশ্চর্য কথা – সখীর স্বভাব এক অকথ্য-কথন। কৃষ্ণ সহ নিজলীলায় নাহি সখীর মন॥ – চৈতন্যচরিতামৃত।। বিশেষণ, ১ অনির্বচনীয় – শেষখণ্ডে শচীদুঃখ অকথ্য-কথন। – চৈতন্যভাগবত। ২ অনির্বচনীয় – আনন্দ হয় অকথ্য-কথন। – চৈতন্যভাগবত। ৩ অবর্ণনীয় – তাঁহা যা দেখিল ভাই ... অকথ্য কথন এই। – চণ্ডীদাস। ৪ অবর্ণনীয় – তনুরুচি অকথ্য-কথন। – কবিকঙ্কণ চণ্ডী। ৫ বর্ণনাতীত – কহিবার কথা নয়—অকথ্য-কথন। – চৈতন্যচরিতামৃত।
  • অকনিষ্ঠ১– বিশেষণ, যার কনিষ্ঠ নেই; কনিষ্ঠ ভ্রাতা বা কনিষ্ঠতর ব্যক্তি নেই এমন; কনিষ্ঠশূন্য। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অ + কনিষ্ঠ; অ (নঞর্থক উপসর্গ) + কনিষ্ঠ = অকনিষ্ঠ; অর্থাৎ কনিষ্ঠ নেই এমন।
  • অকনিষ্ঠ২– বিশেষ্য, [আলঙ্করিক] বুদ্ধদেব। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত, অক (পাপ, বেদনিন্দা বা গর্হিত কর্ম) + নিষ্ঠ (নিরত); অর্থাৎ যিনি গর্হিত কাজে নিরত। টীকা: বৈদিক ক্রিয়াকর্মের নিন্দা করতেন বলে আক্রোশবশত বুদ্ধদেবকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে।
  • অকন্যা– বিশেষণ, ১ [স্ত্রীলিঙ্গ] কন্যা বা কুমারী নয় এমন; অকুমারী। ২ [স্ত্রীলিঙ্গ] যার যোনি অক্ষত নয়; ক্ষতযোনি; কুমারীত্বহীন। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন = অ + কন্যা; অ (নঞর্থক উপসর্গ) + কন্যা = অকন্যা; অর্থাৎ কন্যা বা কুমারী নয় এমন নারী।
  • অকপট– বিশেষ্য, অকপটতা; অকপটত্ব।। বিশেষণ, কপটতাহীন; ছলনাহীন; প্রবঞ্চনাহীন; সরল; অমায়িক; অকৃত্রিম; sincere. যেমন– অকপট বন্ধু, অকপট হৃদয়।। ক্রিয়াবিশেষণ, অকপটে। প্রয়োগ: ১ অকপট সখা বলি কর অহঙ্কার। – ব্রহ্মসঙ্গীত। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন = অ-কপট (ছল)।
  • অকপটে– ক্রিয়াবিশেষণ, ১ ছলনা না করে; সরলভাবে; সরল অন্তরে; অকৃত্রিম মনে। ২ গোপন না করে; খুলে; স্পষ্টভাবে। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অ + কপট + এ।
  • অকপটচিত্ত– বিশেষণ, সরলমনা; অমায়িক স্বভাবসম্পন্ন। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন = অ + কপট + √চিৎ + ত।
  • অকপটচিত্তে– ক্রিয়াবিশেষণ, ১ ছলনা না করে; সরলভাবে; সরল অন্তরে; অকৃত্রিম মনে। ২ গোপন না করে; খুলে; স্পষ্টভাবে। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অকপট + চিত্তে।
  • অকপটতা– বিশেষ্য, ১ সরলতা; ছলনাহীনতা; কপটতাহীন ভাব। ২ ঔদার্য। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন = অ-কপট (ছল) + তা।
  • অকপটভাবে– ক্রিয়াবিশেষণ, ১ ছলনা না করে; সরলভাবে; সরল অন্তরে; অকৃত্রিম মনে। ২ গোপন না করে; খুলে; স্পষ্টভাবে। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অকপট + ভাবে।
  • অকবি– বিশেষণ, কবিত্ববিহীন; অপ্রসিদ্ধ; অকৃতী; কবিনামের অযোগ্য; রসজ্ঞান হীন। প্রয়োগ: বিশেষণ, ১ আশে পাশে ঘোরে ঝি টা-নিতান্ত অকবি! – দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। ব্যুৎপত্তি: অকবি সংস্কৃত ন = অ-কবি।
  • অকবজ– বিশেষণ, অনায়ত্ত; অনধিকৃত; যার ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি বা যা অধিকারে আনা হয়নি। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত নঞর্থক উপসর্গ অ + আরবি কব্‌জ (অধিকার)।
  • অকমনীয়– বিশেষণ, অসুন্দর; লাবণ্যহীন; কমনীয়তাহীন। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন = অ + কমন + ঈয়।
  • অকম্প– বিশেষণ, ১ যাতে কম্পন নেই; কম্পনশূন্য; কম্পনহীন; স্থির; স্তব্ধ; অনড়; নিশ্চল (অকম্প প্রদীপশিখা)। ২ অবিচলিত (অকম্পিত হৃদয়ে)। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন = অ-কম্প (স্পন্দন)। প্রয়োগ: বিশেষণ, ১ অগ্নিময়তেজঃ বাজী ধাইল অম্বরে, অকম্প চামর শিরে। – মেঘনাদবধ কাব্য, মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
  • অকম্পিত– বিশেষ্য, ১ বৌদ্ধসম্প্রদায়ের এমন এক গণাধিপতিবিশেষ, যাঁদের বুদ্ধিতে চাঞ্চল্য নেই। ২ (নাট্যশাস্ত্র) উপদেশ, অনুসন্ধান প্রভৃতি স্থলে মস্তক কম্পিত করে ধীরগতিতে নাড়ানোর বিশেষ ভঙ্গি। ৩ [স্ত্রীলিঙ্গ] অকম্পিতা।। বিশেষণ, ১ কম্পনরহিত; কম্পনহীন; নিশ্চল; অচঞ্চল; স্থির; অচল; দৃঢ়। প্রয়োগ– অকম্প প্রদীপশিখা, অকম্পিত কলেবর, অকম্পিত কণ্ঠ, অকম্পিত চরণ। ২ অবিচলিত; যা বিচলিত হয়নি বা যাতে চিত্তের চাঞ্চল্য নেই। প্রয়োগ– অকম্পিত হৃদয়ে। ৩ স্বরকম্পনরহিত; উচ্চারণের সময় স্বরে কম্পন নেই এমন। ৪ সংকল্পে অটল; দৃঢ়প্রতিজ্ঞ; দৃঢ়াধ্যবসায়ী; ব্যবসায়পরায়ণ। প্রয়োগ: বিশেষণ, ১ স্বরকম্পনরহিত – স্বরান্ ব্রূয়াদবিকৃষ্টানকম্পিতান্। – ঋগ্বেদ–প্রাতিশাখ্য। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন (নঞ্‌) = অ + কম্পিত।
  • অকম্পন– বিশেষ্য, ১ কম্পনশূন্য; কম্পনহীন; নির্ভীক; স্থির। ২ [পৌরাণিক] রাবণের একজন সেনাধ্যক্ষ। প্রয়োগ: বিশেষ্য, ১ নির্ভীক – অকম্পন নাম তার কম্পে না কখন। – রামায়ণ, কৃত্তিবাস। ২ নির্ভীক – অকম্পন রণে ধীর, যথা ভূধর, পড়েছে সহ অতিকায় রথী। – মেঘনাদবধ কাব্য, মাইকেল মধুসূদন দত্ত। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন = অ-কম্প (কাঁপা) + অন্ (ভাববাচ্য)। অকম্পন: রামায়ণের বিবরণ অনুযায়ী, অকম্পন ছিলেন রাক্ষসরাজ রাবণের অন্যতম প্রধান সেনাপতি এবং সম্পর্কে রাবণের মামা। তিনি দৈত্য সুমালী এবং তাঁর পত্নী কেতুমতির সন্তান। সুমালী ও কেতুমতির মোট ১৪টি সন্তানের মধ্যে অকম্পন ছিলেন দ্বিতীয় পুত্র। দণ্ডকারণ্যের জনস্থানে যখন শ্রীরামচন্দ্র একাকী রাক্ষস সেনাপতি খর, দূষণ ও ত্রিশিরা সহ প্রায় ১৪ হাজার রাক্ষস সৈন্যকে বিনাশ করেন, তখন অকম্পন সেই প্রাণঘাতী যুদ্ধ থেকে বেঁচে লঙ্কায় পালিয়ে যান। তিনি লঙ্কায় পৌঁছে রাবণকে এই ভয়াবহ পরাজয়ের সংবাদ দেন। অকম্পন রাবণকে সতর্ক করে জানান যে, রামের বীরত্ব ও ধনুবিদ্যা এমন যে দেবতা বা অসুর—কারোর পক্ষেই তাঁকে যুদ্ধে পরাজিত করা সম্ভব নয়। বাল্মীকি রামায়ণের প্রচলিত পাঠ্য ও আখ্যান অনুযায়ী, রামের শক্তি উপলব্ধি করে অকম্পনই প্রথম রাবণকে ছলের মাধ্যমে সীতাকে অপহরণ করার পরামর্শ দেন। তাঁর যুক্তি ছিল—সীতাই রামের প্রাণস্বরূপ, তাই সীতা অপহৃত হলে রাম শোকে ভেঙে পড়বেন এবং তাঁকে পরাস্ত করা সহজ হবে। রামায়ণের সমালোচনামূলক সংস্করণে (Critical Edition) এই পরামর্শের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও আরণ্যক কাণ্ডের প্রচলিত পাঠে এটি অকম্পনের একটি প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত। রাম-রাবণের যুদ্ধের সময় আশ্বিন মাসের প্রতিপদ তিথিতে রাবণ চতুরঙ্গ সেনাবাহিনী নিয়ে যুদ্ধে নামলে অকম্পন বানর সেনার বিরুদ্ধে প্রচণ্ড আক্রমণ চালান। তাঁর রথ ও ধনুর্বাণে বানর বাহিনী ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে শ্রী হনুমান অকম্পনের মুখোমুখি হন। উভয়ের মধ্যে তীব্র সংগ্রামের পর, হনুমান একটি বিশাল উপড়ানো বৃক্ষ নিক্ষেপ করে অকম্পন ও তাঁর রথ চূর্ণ করে দেন। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রেই অকম্পনের সলিল সমাধি ঘটে (বাল্মীকি রামায়ণ, যুদ্ধকাণ্ড, সর্গ ৫৬)। রামায়ণের রাক্ষস সেনাপতি ছাড়াও পৌরাণিক সাহিত্যে ‘অকম্পন’ নামে আরও কিছু ব্যক্তিত্বের উল্লেখ পাওয়া যায়: বায়ু পুরাণ: বায়ু পুরাণের মতে, মহর্ষি কশ্যপের ঔরসে এবং খসার গর্ভে জন্ম নেওয়া এক বিশেষ রাক্ষসের নাম অকম্পন। ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ: এই পুরাণে অকম্পনকে দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুর রাজসভার অন্যতম প্রধান অসুর হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মহাভারত (রাজা অকম্পন): মহাভারতের দ্রোণ পর্বের ৫২তম অধ্যায়ে ব্যাসদেব (কৃষ্ণ-দ্বৈপায়ন) এক রাজা অকম্পনের গল্প তুলে ধরেন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অভিমন্যুর মৃত্যুর পর রাজা যুধিষ্ঠির গভীর শোকে আচ্ছন্ন হলে, ব্যাসদেব তাঁকে শান্ত করার জন্য সত্যযুগের রাজা অকম্পনের কাহিনী শোনান। যুদ্ধে রাজা অকম্পনের পুত্র নিহত হলে তিনি পুত্ৰশোকে ভেঙে পড়েন। তখন দেবর্ষি নারদ তাঁর কাছে এসে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে ‘মৃত্যুর উৎপত্তি’ এবং এর অনিবার্যতার ব্যাখ্যা দিয়ে রাজাকে শোকমুক্ত করেছিলেন। রামায়ণের প্রেক্ষাপটে অকম্পন চরিত্রটি একজন দক্ষ সংবাদ সংগ্রাহক, কৌশলী পরামর্শদাতা এবং বীর যোদ্ধা হিসেবে ফুটে উঠে। যুদ্ধের ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তিনি রাবণকে সরাসরি রামের মুখোমুখি না হয়ে বিকল্প কৌশলের (সীতা অপহরণ) পথ দেখিয়েছিলেন, যা পুরো রামায়ণের গতিপথকে পরিবর্তন করে দেয়। লঙ্কার প্রতি আনুগত্য রেখে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বীরত্বের সাথে লড়াই করে হনুমানের হাতে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
  • অকম্পনীয়– বিশেষণ, কম্পনের অযোগ্য; যা কম্পিত হতে পারে না বা যাকে কম্পিত করা যায় না; অকম্প্য; কম্পন-অসাধ্য। ব্যুৎপত্তি: তৎসম অ + কম্পনীয় (কম্প্‌ + অনীয়)।
  • অকম্প্য– বিশেষণ, কম্পনের অযোগ্য; যা কম্পিত হতে পারে না বা যাকে কম্পিত করা যায় না; অকম্পনীয়; কম্পন-অসাধ্য। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অ + কম্প্য (কম্প্‌ + ণ্যৎ)।
  • অকম্প্র– বিশেষণ, ১ অকম্পিত; কম্পনহীন; স্থির; নিশ্চল। ২ অবিচলিত; দৃঢ়। সমার্থক: অকম্প; অকম্পিত ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত, ন = অ + কম্প + র। প্রয়োগ: বিশেষ্য, ১ অবিচলিত – অকম্প্র হৃদয়। বিশেষণ, ১ দৃঢ় – সমরে অকম্প্র ২ নিশ্চল – অকম্প্র নেত্র ৩ স্থির – অকম্প্র প্রদীপশিখা
  • অকম্ম– বিশেষ্য, অপকর্ম; অকার্য; গর্হিত কাজ; কুকার্য। অকর্ম দ্রষ্টব্য। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অ + কর্ম্ম = কম্ম, কম্মো।
  • অকম্মা– বিশেষণ, ১ যে কোন কর্ম সম্পন্ন করতে পারে না; কোন কর্মের নয়; যে কোন কাজেই লাগে না। ২ অলস; জড়প্রকৃতি। ৩ কর্মবিমুখ; যে কাজ করতে ভালবাসে না। ৪ যে কুকর্ম করে; অপকর্মকারী; নিন্দনীয় কর্মকারী; কুক্রিয়াকারী। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন = অ + কর্ম্মন্– প্রথমা একবচন > কথ্য অকম্মা।
  • অকর১– বিশেষণ, ১ যার কর নেই; করহীন; হস্তশূন্য; হস্তহীন। ২ [স্ত্রীলিঙ্গ] অকরা।। ক্রিয়াবিশেষণ, করহীন হওয়া; কর ব্যতিরেকে। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন = অ + কর (হস্ত) – বহুব্রীহি সমাস।
  • অকর২– বিশেষণ, (রাজস্ব) নিষ্কর, শুল্ক বা করের অযোগ্য; শুল্কের অযোগ্য; রাজভাগরহিত; নিষ্কর; tax or rent-free; duty free. ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন = অ + কর (রাজস্ব) – বহুব্রীহি সমাস।
  • অকরুণ– বিশেষণ, করুণা নেই যার; করুণা-রহিত; করুণাহীন; দয়াহীন; নিষ্ঠুর; নির্দয়; নির্মম; করুণা নেই এমন (অকরুণ ভাগ্য); অকৃপ। প্রয়োগ: বিশেষণ, ১ করুণাহীন – কবি চণ্ডীদাস কয়, কিবা তুমি কর ভয়, বন্ধু তোর নহে অকরুণা। – চণ্ডীদাস।। ২ অরে বিধি! অকরুণ – চৈতন্যচরিতামৃত। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন = অ (নাই) করুণা (দয়া) যার–বহুব্রীহি সমাস; স্ত্রীলিঙ্গে অকরুণা।
  • অকরোটি– বিশেষ্য, ১ যে সকল জন্তুর মাথার খুলির সম্পূর্ণ বা আংশিক অভাব আছে (এই সকল জন্তু পঞ্জরী প্রাণীর নিম্নস্তরে অবস্থিত); আংশিক বা সম্পূর্ণ করোটিহীন; মেরুদণ্ডী প্রাণীর নিম্নস্তরভুক্ত জন্তু। ২ (শরীরবিদ্যা) Acrania. (কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রণীত পরিভাষা)। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন = অ (অভাব বা অল্পতা) + করোটী (মাথার খুলি)।
  • অকরণ১– বিশেষ্য, ১ না করা; অননুষ্ঠান; অক্রিয়া; নিবৃত্তি। ২ করণাভাব; কাজের অভাব। ৩ অনুচিত কর্ম; অনুচিত কাজ; অপকর্ম; অক্রিয়া। ৪ নির্গুণ ব্রহ্ম; সর্বকর্ম রহিত পরমাত্মা। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন + কৃ + ল্যুট্; ন = অ-করণ।
  • অকরণ২– বিশেষণ, ১ যার করণ বা দেহেন্দ্রিয়াদি নেই; ইন্দ্রিয়াদি হীন; সর্বকরণহীন; অবয়ব হীন; নিরাকার; পরমাত্মা। ২ যার নির্মাণ নেই; অনির্মিত; অকৃত্রিম; স্বাভাবিক; যাকে কেউ জন্ম দেয়নি বা তৈরি করেনি; পরমাত্মা। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন = অ + করণ = ইন্দ্রিয়; বহুব্রীহি সমাস; স্ত্রীলিঙ্গে অকরণা।
  • অকরণ৩– বিশেষণ, ১ করণের অভাব; অননুষ্ঠান; অনাচরণ। ২ করণাভাব; নিবৃত্তি।। ৩ সংস্কৃত ন = অ + করণ; যার করণ নেই, নঞ্ তৎপুরুষ সমাস। প্রয়োগ: বিশেষণ, ১ না করা – অকরণাৎ মন্দকরণং শ্রেয়ঃ (স্মার্ত্ত)।। ২ অনাচরণ – এ সভের বিদ্ধাত্যাগ, অবিদ্ধাকরণ। অকরণে দোষ, কৈলে ভক্তি-লম্ভন॥ – চৈতন্যচরিতামৃত।।
  • অকরণি– বিশেষ্য, ১ ক্রোধে অধীর হয়ে কারও প্রতি অনিষ্টসূচক বাক্য প্রয়োগ; আক্রোশ; ক্রুদ্ধ বাক্য। ২ অভিশাপ; শাপ; কারও অমঙ্গল কামনা করে উচ্চারিত বাক্য। ৩ ক্রোধ, বিরক্তি বা বিদ্বেষবশত কটুবাক্য প্রয়োগ; তিরস্কার; ভর্ৎসনা। ৪ ক্রুদ্ধভাবে নিন্দা বা গালমন্দ করা। ব্যুৎপত্তি: বাংলা (অনুবাদ গ্রন্থে ব্যবহৃত, অন্যত্র বিরল); “শাপে আক্রোশে অকরণিরিত্যা- দয়ঃ”–অমরকোষ টীকা।
  • অকরণী– (গণিত) যে রাশির বর্গমূল বা প্রাসঙ্গিক মূল নির্ণয় করলে মূলদ মান পাওয়া যায়। যেমন– ৪, ১৬, ২৫, ৬৪ প্রভৃতি পূর্ণবর্গ সংখ্যা; ৪=২\sqrt{৪}=২ , ৯=৩\sqrt{৯}=৩ , ১৬=৪\sqrt{১৬}=৪ , ২৫=৫\sqrt{২৫}=৫ , ৬৪=৮\sqrt{৬৪}=৮ । বিশেষ্য, যে রাশি করণী (surd) নয় অর্থাৎ যার বর্গমূল সূক্ষ্মভাবে বের হয় অর্থাৎ কোন ভাগশেষ থাকে না; যে রাশির বর্গমূল বা প্রাসঙ্গিক মূল নির্ণয় করলে মূলদ মান পাওয়া যায়। rational quantity; rational number; ৪, ১৬, ২৫, ৬৪ ইত্যাদি রাশি। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন + করণ + ঈ (স্ত্রী); নঞ্ তৎপুরুষ সমাস। টীকা: আধুনিক গণিতের পরিভাষায় rational number অর্থ মূলদ সংখ্যা এবং irrational number অর্থ অমূলদ সংখ্যা। ‘অকরণী’ ঐতিহাসিক পরিভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হলে সেটিকে ‘মূলদ রাশি’ অর্থে গ্রহণ করা যায়; তবে সব মূলদ রাশি পূর্ণবর্গ সংখ্যা নয়।
  • অকরণীয়– বিশেষণ, ১ অননুষ্ঠেয়; অকর্তব্য; অনাচরণীয়; অনুষ্ঠানের অযোগ্য; করার অযোগ্য। ২ বিবাহাদি সম্পর্ক স্থাপনের অযোগ্য (অকরণীয় ঘর)। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন + করণ + ঈয়; স্ত্রীলিঙ্গে ঈয়া (অকরণীয়া); বহুব্রীহি সমাস।
  • অকর্কশ– বিশেষ্য, অকর্কশতা; অকর্কশত্ব।। বিশেষণ, ১ কর্কশ নয় এমন; কার্কশ্যরহিত; কোমল; নরম। ২ মসৃণ। ৩ তেলতেলে। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন = অ + কর্কশ; স্ত্রীলিঙ্গে অকর্কশা।
  • অকর্ণ১– বিশেষ্য, ১ বধির ব্যক্তি; কালা। ২ (সর্পের কর্ণ নাই, চক্ষুই তার কর্ণের কাজ করে বলে) সর্প (অপ্রচল)।। বিশেষণ, ১ কর্ণহীন, কান নেই এমন; শ্রবণেন্দ্রিয়হীন। ২ বধির; বদ্ধকালা; শ্রবণহীন। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত ন = অ (নাই) কর্ণ (কান) যার–বহুব্রীহি সমাস। প্রয়োগ: ১ অচক্ষু সর্ব্বত্র চান, অকর্ণ শুনিতে পান, অপদ সর্ব্বত্র গতাগতি। – অন্নদামঙ্গল, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। টীকা: অচক্ষু সর্ব্বত্র চান, অকর্ণ শুনিতে পান, অপদ সর্ব্বত্র গতাগতি।– ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর এই বাক্যে অচক্ষু (চোখহীন), অকর্ণ (কানহীন), অপদ (পাহীন) বলতে পরমাত্মা, পরম ব্রহ্মকে বুঝিয়েছেন। হিন্দু মতে ব্রহ্মের কোন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নেই, কিন্তু ইসলামী মতে আল্লাহর মুখমণ্ডল, হস্ত, পদ, চক্ষু আছে–কিন্তু সেগুলো মানবের ব্যাখ্যাতীত।