অ
ভুক্তি সংখ্যা
২২১ টি
- অংশভার– বিশেষ্য, ১ কাঁধের বোঝা। ২ [আলঙ্করিক] ঘাড়ের বোঝা; দায়; দায়িত্ব; responsibility. ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অংশ + ভার।
- অংশমান– বিশেষণ, অংশ গ্রহণকারী; অংশীদার; ভাগীদার; কোন বিষয়, সম্পদ বা অধিকারের অংশভোগী; অংশ অনুসারে প্রাপ্য গ্রহণকারী; ভাগ করে নিচ্ছে এমন; বণ্টনে অংশগ্রহণকারী; কোন কার্য, উদ্যোগ বা দায়িত্বের অংশগ্রহণকারী; অংশবিশেষের অধিকারী। প্রসঙ্গভেদে অর্থ: সম্পত্তির ক্ষেত্রে: অংশীদার, ভাগীদার, শরিক। কোনো কাজ বা উদ্যোগের ক্ষেত্রে: অংশগ্রহণকারী, সহযোগী। বণ্টনের ক্ষেত্রে: ভাগগ্রহণকারী, প্রাপ্যাংশ গ্রহণকারী। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অংশ + মান্।
- অংশয়িতব্য– বিশেষণ, বিভাজ্য; যা ভাগ করা যায়; যা বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করা সম্ভব; যা অংশে অংশে বণ্টন করা যায়; বিভক্তিযোগ্য; খণ্ডনযোগ্য।
- অংশল১– বিশেষণ, ১ প্রশস্ত স্কন্ধবান্; বলবান্; শক্তিশালী। ২ [স্ত্রীলিঙ্গ] অংশলা; অংসলা। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অংশ৩ (শক্তি) + ল (অস্ত্যার্থে) যার শক্তি আছে; তুলনামূলক অংসল।
- অংশল২– বিশেষণ, অংশগ্রাহী; অংশগ্রাহক; অংশহর; ভাগগ্রাহক; বিভাগগ্রাহী। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অংশ২ (ভাগ) + লা (গ্রহণকরা) + অ।
- অংশসবর্ণন– বিশেষ্য, (গণিত) দুই অসমচ্ছেদ রাশিকে সমচ্ছেদবিশিষ্ট করার প্রক্রিয়া; ভিন্ন হরবিশিষ্ট ভগ্নাংশের সমহরকরণ; অসমরাশির সমবিভাগকরণ। ব্যুৎপত্তি: অংশ + স + বর্ণন; লীলাবতীর মতে: (বাচস্পত্যে উদ্ধৃত লীলাবতীর মতে) অংশয়োঃ অতুল্যচ্ছেদয়োঃ রাশ্যোঃ সমচ্ছেদকণম্ অর্থাৎ অসমরাশির সমবিভাগকরণ।
- অংশহারী– বিশেষণ, অংশগ্রহণকারী; অংশগ্রাহক; অংশীদার; ভাগীদার; শরিক; কোন সম্পত্তি, অধিকার বা প্রাপ্য ভাগ করে গ্রহণকারী; উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তির অংশপ্রাপ্ত ব্যক্তি; দায়াদ; কোন বিষয় বা কর্মে অংশগ্রহণকারী বা অংশভোগী ব্যক্তি। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অংশ + ✔হৃ + ইন্ (ণিনি)।
- অংশহর– বিশেষণ, ১ অংশহারক; অংশাপহারী। ২ অংশলোপকারী। ৩ অংশ গ্রহণকারী; ভাগগ্রাহী; উত্তরাধিকারী। ৪ [স্ত্রীলিঙ্গ] অংশহরা–উত্তরাধিকারিণী। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত [অংশ২ + হর (হৃ = হরণ করা)।
- অংশ্বাদি– বিশেষ্য, (ব্যাকরণ) অংশু, জন, রাজন্, উষ্ট্র, রোটক, অজির, আর্দ্রা, শ্রবণ, কৃত্তিকা, অর্ধ ও পুর—এই শব্দগুলির সমষ্টিগত সংজ্ঞা (অংশ্বাদি)। পাণিনীয় ব্যাকরণে এই শব্দগুলি তৎপুরুষ সমাসে উত্তরপদের সঙ্গে যুক্ত হলে সমাসপদের অন্তোদাত্ত স্বর হয়। সূত্র— প্রতেরংশ্বাদয়স্তৎপুরুষে (পাণিনি, ৬.২.১৯২)। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অংশু + আদি—অংশু ও অন্যান্য শব্দ; অর্থাৎ, অংশু প্রভৃতি শব্দের সমষ্টি।
- অংশ্যমান্– বিশেষণ, ১ অংশ করা হচ্ছে এমন। ২ [স্ত্রীলিঙ্গ] অংশ্যমানা। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অন্শ + শান্ (কর্মবাচ্য)।
- অংস১– যে ভারাদি দ্বারা রুগ্ন, পীড়িত হয়। বিশেষ্য, ১ কাঁধ; স্কন্ধ। ২ ঘাড়ের দুই পাশের কাঁধসংলগ্ন অংশ; দুইটি স্কন্ধের অর্ধাঙ্গুলি পরিমিত স্নায়ুবিশিষ্ট স্থান। ৩ দেহের যে অংশে বাহু সংযুক্ত থাকে। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অংস (अंस)। শব্দটির মূল অর্থ কাঁধ বা স্কন্ধ; সংস্কৃত ও প্রাচীন ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যার পরিভাষায় কৌণিক পরিমাপের একক অর্থেও এর ব্যবহার রয়েছে।
- অংস২– বিশেষ্য, ১ (প্রাচীন) ভাগ; অংশ; খণ্ড। ২ রাশিচক্রের ত্রিশ ভাগের এক ভাগ; ডিগ্রি। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অংস (अंस)। শব্দটির মূল অর্থ কাঁধ বা স্কন্ধ; সংস্কৃত ও প্রাচীন ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যার পরিভাষায় কৌণিক পরিমাপের একক অর্থেও এর ব্যবহার রয়েছে। প্রয়োগ: বিশেষ্য, ১ কাঁধ – বন্দুক সদর্প ভরে, তুলি নিল অংসোপরে। – পলাশি।
- অংসারূঢ়– বিশেষণ, স্কন্ধারূঢ়; স্কন্ধে আরোহিত; কাঁধের ওপর স্থাপিত; কাঁধে পতিত বা ঝুলন্ত। ব্যুৎপত্তি: অংস + আরূঢ়; স্কন্ধে আরূঢ়, দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস। প্রয়োগ: বিশেষণ, ১ কাঁধে – নৈদাঘ বায়ু ... অংসারূঢ় চারুবাস কম্পিত করিতেছিল। – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- অংসকূট– বিশেষ্য, ১ ষাঁড়ের ঝুঁট বা ঝুঁটি; ককুদ। ২ কূটবৎ উচ্চ স্কন্ধত তুঙ্গস্কন্ধ। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অংস (স্কন্ধ) কূট (শিখর)– ষষ্ঠী তৎপুরুষ; অংস কূটতুল্য, উপমিত সমাস; অংসঃকূট ইব উন্নতঃ। টীকা: ষাঁড়ের ঝুঁট পুরুষত্বের লক্ষণ। যেমন ছাগলকে খাসি করলে অধিক শৃঙ্গবৃদ্ধি বা গায়ে গন্ধ হয় না, তদ্রূপ ষাঁড়ের কোষ কেটে দিলে ঝুঁটবৃদ্ধি হয় না।
- অংসত্র– যা অংস ত্রাণ করে; স্কন্ধাবরক কবচবিশেষ। বিশেষ্য, স্কন্ধরক্ষক কবচ; স্কন্ধাবরক। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অংস১ + √ত্রৈ (ত্র–ত্রাণে) + অ (কর্তবাচ্য)। টীকা: আদেচ উপদেশে হশিতি (পাণিনি ৬.১.৪৫)। এজন্তো যো ধাতুরূপদেশে সত্যাকারাদেশো ভবতি, শিতি তু প্রত্যয়ে ন ভবতি। উপদেশে যে সকর ধাতু এজন্ত তাদের পর আকার আদেশ হয়। কিন্তু প্রত্যয়ের শকার ইৎ হলে হয় না। এখানে ত্রৈ ধাতুর ঐকার স্থানে আকার হলে ত্রা হয়, তারপর আতোঽনুপসর্গে কঃ (পাণিনি ৩.২.৩)–আতো লোপঃ। উপসর্গহীন কর্মোপপদের পর আকারান্ত ধাতুর উত্তর কপ্রত্যয় হয় এবং আকারের লোপ হয়।
- অংসপৃষ্ঠ– বিশেষ্য, স্কন্ধের পৃষ্ঠদেশ; কাঁধের পশ্চাদ্ভাগ। ব্যুৎপত্তি: অংসের পৃষ্ঠ; অংস + পৃষ্ঠ, ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। টীকা: সংস্কৃত অংসপৃষ্ঠ (अंसपृष्ठ)। ‘অংস’ অর্থ কাঁধ বা স্কন্ধ এবং ‘পৃষ্ঠ’ অর্থ পিঠ, পশ্চাদ্ভাগ বা পিছনের দিক। ‘অংসের পৃষ্ঠ’—এই ব্যাসবাক্য অনুসারে শব্দটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে নিষ্পন্ন। প্রয়োগ: বিশেষ্য, ১ ভারী বোঝা বহন করতে গিয়ে তার অংসপৃষ্ঠে ব্যথা অনুভূত হলো।
- অংসফলক– বিশেষ্য, (শরীরবিদ্যা) স্কন্ধের অস্থি; পৃষ্ঠদেশে মেরুদণ্ডের দুই পাশে, বাহুর সঙ্গে স্কন্ধের সন্ধিস্থলে অবস্থিত ত্রিকোণাকার চ্যাপটা অস্থিবিশেষ; shoulder blade; স্ক্যাপুলা (scapula)। এই অস্থি আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাহুর স্বাভাবিক সঞ্চালন ব্যাহত হতে পারে এবং বাহু দুর্বল বা শুষ্ক হয়ে পড়তে পারে। ব্যুৎপত্তি: অংস + ফলক, ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস টীকা: সংস্কৃত অংসফলক (अंसफलकम्)। ‘অংস’ অর্থ কাঁধ বা স্কন্ধ এবং ‘ফলক’ অর্থ চ্যাপটা পাত বা পাটাতনসদৃশ বস্তু। ‘অংসের ফলক’—এই ব্যাসবাক্য অনুসারে শব্দটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে নিষ্পন্ন; অংসের কাছে অবস্থিত চ্যাপটা অস্থি অর্থে এর নামকরণ। প্রয়োগ: বিশেষ্য, ১ অংসফলকে আঘাত লাগলে হাত ওঠানো ও কাঁধ ঘোরানোর সময় ব্যথা হতে পারে।
- অংসফলকাস্থি– বিশেষ্য, (শরীরবিদ্যা) স্কন্ধের পশ্চাৎভাগে, মেরুদণ্ডের দুই পাশে অবস্থিত ত্রিকোণাকার চ্যাপটা অস্থি; বাহু সঞ্চালনের সময় যা পৃষ্ঠদেশে নড়াচড়া করে; অংসফলক; scapula; shoulder blade। অস্থি দুটি বাহুর সঞ্চালন ও কাঁধের স্বাভাবিক নড়াচড়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যুৎপত্তি: অংসফলক + অস্থি; অংসফলকের অস্থি, ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
- অংসবান্– বিশেষণ, ১ অবল; দুর্বল; শক্তিহীন; বলহীন। ২ [স্ত্রীলিঙ্গ] অংসবতী। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অংসবান্; অংস + বৎ (বতুপ্), ‘অবল’ অর্থে। টীকা: সংস্কৃত অংসবান্ (अंसवान्)। ‘অংস’ শব্দের সঙ্গে ‘বতুপ্’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে শব্দটি গঠিত। এখানে প্রত্যয়টি ‘অবল’ বা ‘দুর্বল’ অর্থে প্রযুক্ত। স্ত্রীলিঙ্গে অংসবতী (अंसवती)।
- অংসভার– বিশেষ্য, স্কন্ধের ভার; কাঁধে বহন করা বোঝা; কাঁধের বোঝা। ব্যুৎপত্তি: অংস (স্কন্ধ) + ভার; অংসের ভার, ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস; অংসে ধৃত ভার, অলুক্ সমাস। সমাস-নিষ্পত্তি: ‘অংস’ অর্থ কাঁধ বা স্কন্ধ এবং ‘ভার’ অর্থ বহনীয় বোঝা। ‘অংসের ভার’ অর্থে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে অংসভার শব্দটি নিষ্পন্ন। আবার ‘অংসে ধৃত ভার’ অর্থে ‘অংসে’ পদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে অলুক্ সমাসেও অংসভার রূপটি সিদ্ধ হয়। ব্যাকরণ-টীকা: পাণিনির অলুগুত্তরপদে (৬.৩.১) সূত্র অনুসারে বিশেষ কিছু সমাসে উত্তরপদের আগে অবস্থিত পূর্বপদের বিভক্তির লোপ হয় না। কাত্যায়নের শাকপার্থিবাদীনাং সিদ্ধয়ে উত্তরপদলোপস্যোপসংখ্যানম্ বার্তিক অনুসারে শাকপার্থিব প্রভৃতি সমাসে উত্তরপদের লোপ স্বীকৃত। যেমন, ‘শাকপ্রিয় পার্থিব’ থেকে ‘প্রিয়’ শব্দের লোপে শাকপার্থিব রূপটি সিদ্ধ হয়। এখানে ‘শাকপ্রিয়’ অর্থে বহুব্রীহি সমাস এবং তার উত্তরপদ ‘প্রিয়’-এর লোপ ঘটেছে। এই দৃষ্টান্তগুলি সমাসে বিভক্তি ও উত্তরপদলোপের বিশেষ নিয়ম বোঝায়।
- অংসভারিক– বিশেষণ, ১ যে স্কন্ধে ভার বহন করে; কাঁধে বোঝা বহনকারী; স্কন্ধে ভারবাহক; যে স্কন্ধে ভার হরণ করে; স্কন্ধে ভারহারক। ২ [স্ত্রীলিঙ্গ] অংসভারিকী; অংসেভারিকী। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অংসভারিক, অংসেভারিক; অংসভার/অংসেভার + ষ্ঠন্ (ইক), ‘হরণ’ অর্থে। এখানে হরণ অর্থ স্থানান্তর। ব্যুৎপত্তি টীকা: সংস্কৃত অংসভারিক ও অংসেভারিক শব্দ দুটি ‘অংসভার’ ও ‘অংসেভার’ শব্দের সঙ্গে ‘ষ্ঠন্’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত। ‘অংস’ অর্থ স্কন্ধ বা কাঁধ এবং ‘ভার’ অর্থ বোঝা। পাণিনি ৪.৪.১৬ সূত্র ভস্ত্রাদিভ্যঃ ষ্ঠন্ অনুসারে, তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত অর্থে হরণ বা স্থানান্তরিত করা বোঝাতে ভস্ত্রাদি গণভুক্ত শব্দের পরে ‘ষ্ঠন্’ প্রত্যয় হয়। ‘অংসভার’ ও ‘অংসেভার’ এই গণভুক্ত হওয়ায় শব্দ দুটির সঙ্গে প্রত্যয়টি যুক্ত হয়েছে। ব্যাকরণ-টীকা: স্ত্রীলিঙ্গে ‘অংসভারিকী’ ও ‘অংসেভারিকী’ রূপ হয়। পাণিনি ৪.১.৪১ সূত্র ষিদ্গৌরাদিভ্যশ্চ অনুসারে ষিৎ-প্রত্যয়ান্ত শব্দ এবং গৌরাদি গণভুক্ত শব্দের স্ত্রীলিঙ্গে ‘ঙীষ্’ প্রত্যয় হয়। সেই নিয়মে স্ত্রীলিঙ্গের রূপ দুটি সিদ্ধ হয়।
- অংসল– বিশেষণ, ১ পুষ্টদেহ; মহাকায়; মহাবল। ২ পুষ্টদেহ; স্থূলদেহী; মহাকায়; মহাবলশালী। ৩ উন্নত স্কন্ধবিশিষ্ট; যার কাঁধ উন্নত। ৪ [স্ত্রীলিঙ্গ] অংসলা। ব্যুৎপত্তি: অংস১ (স্কন্ধ) + ল (লচ্)–অস্ত্যার্থে; স্ত্রীলিঙ্গে অংসলা। ব্যুৎপত্তি-টীকা: সংস্কৃত অংসল (अंसल)। ‘অংস’ অর্থ স্কন্ধ বা কাঁধ। এর সঙ্গে অস্ত্যর্থে ‘লচ্’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে শব্দটি গঠিত; অর্থাৎ যার অংস বা স্কন্ধ আছে, অথবা যার স্কন্ধের বিশেষ গঠন রয়েছে। ব্যাকরণ-টীকা: পাণিনি ৫.২.৯৮ সূত্র—বৎসাং সাভ্যাং কামবলে। বৎস ও অংস শব্দের উত্তর ‘লচ্’ প্রত্যয় হয়; যথাক্রমে কামবান্ ও বলবান্ অর্থে। স্থূল বা উপচিমাংসবিশিষ্ট—এই অর্থে অংস শব্দের পরে ‘মতুপ্’ প্রত্যয় হয় না। ‘মতুপ্’ (মৎ) প্রত্যয় করলে অংসবর্তী গৌঃ—অর্থাৎ অংসযুক্ত গরু—এই রূপ হয়। কিন্তু অংসবান্ শব্দের অর্থ ‘দুর্বল’—ইতি কাশিকা।
- অংস্বরূপা– বিশেষণ, ১ অণুরূপা; অনুসদৃশী। ২ [আলঙ্করিক, স্ত্রীলিঙ্গ] কালী। ব্যুৎপত্তি: অম্ স্বরূপ যার, বহুব্রীহি সমাস; স্ত্রীলিঙ্গে আ (টাপ্)। প্রয়োগ: ১ কালী – অংস্বরূপা অংশুময়ী। – ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- অংস্য– বিশেষণ, ১ স্কন্ধে জাত; স্কন্ধে উৎপন্ন; স্কন্ধভব। ২ বিভাজ্য; যা ভাগ করা যায়। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত, অংস + যৎ। টীকা: ‘অংস’ অর্থ স্কন্ধ বা কাঁধ। ‘অংসে স্কন্ধে ভবঃ’—অর্থাৎ স্কন্ধে উৎপন্ন বা স্কন্ধে অবস্থিত—এই অর্থে ‘যৎ’ প্রত্যয়যোগে অংস্য শব্দটি নিষ্পন্ন। এ ছাড়া কর্মবাচ্যে ‘যৎ’ প্রত্যয়ান্ত অংস্য শব্দের অর্থ বিভাজ্য; যা ভাগ করা উচিত বা ভাগ করা যায়।
- অংহ– বিশেষ্য, অঘ; পাপ; অধর্ম; অধঃপতন; যে কর্ম বা আচরণের ফলে অধোগতি ঘটে। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অংহস্ > প্রাকৃত অংহ > ; অন্হ্ (গমন করা) + অ (দান)–সংজ্ঞার্থে–যদ্বারা অধোগমন ঘটে। প্রয়োগ: বিশেষ্য, ১ পাপ – অংহেতে অঙ্কিত অঙ্গ রাখ অঙ্গে করি। – অন্নদামঙ্গল, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। ধাতু ও ক্রিয়ারূপ: অংহ (অহি), ভ্বাদি গণ, পরস্মৈপদ ও আত্মনেপদ; অর্থ—গমন করা। লট্: অংহতে। লিট্: আনংহে। লুঙ্: আংহিষ্ট। সনন্ত রূপ: অঞ্জিহিষতে। ণিজন্ত রূপ: আঞ্জিহৎ। উদাহরণ: “আংহিষাতাং রঘুব্যাঘ্রৌ শরভঙ্গাশ্রমং ততঃ।” — ভট্টি। এখানে আংহিষাতাম্ অর্থ গমন করেছিলেন বা গিয়েছিলেন—দুই রঘুব্যাঘ্র (রাম ও লক্ষ্মণ) শরভঙ্গের আশ্রমে গিয়েছিলেন। “ইতি ব্রূবাণো মধুরং হিতঞ্চ তমাঞ্জিহৎ মৈথিলযজ্ঞভূমিম্।” এখানে আঞ্জিহৎ অর্থ গমন করালেন বা নিয়ে গেলেন; অর্থাৎ তাঁকে মিথিলার যজ্ঞভূমিতে নিয়ে গেলেন। ব্যাকরণ-টীকা: মূল ধাতু অহি (অংহ নয়)। ধাতুটির ইকার ইৎ হওয়ায় নুম্ আগম হয়। পাণিনি ৭.১.৫৮ সূত্র—ইদিতো নুম্ ধাতোঃ—অনুসারে ইদিৎ ধাতুর নুম্ আগম বিধেয়। এ ক্ষেত্রে নুম্-এর নকারের লোপ হয় না বলে কর্মবাচ্যে অংহ্যতে রূপটি সিদ্ধ হয়। অন্যদিকে, অহি ধাতুর চুরাদি গণীয় প্রয়োগে দীপ্তি বা দীপ্ত হওয়া অর্থে অংহয়তি রূপ পাওয়া যায়।
- অংহু– বিশেষণ, পাপী; পাপকারী; পাপাচারী; অধর্মে লিপ্ত। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অহি + কু =অংহু – ‘অহি’ ধাতুর সঙ্গে ‘কু’ প্রত্যয়যোগে শব্দটির নিষ্পত্তি।
- অংহুর– বিশেষণ, গতিযুক্ত; গতিশীল; গমনশীল। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অহি + উরচ্ = অংহুর। ‘অহি’ ধাতুর সঙ্গে ‘উরচ্’ প্রত্যয়যোগে শব্দটি গঠিত; অর্থ—যার গতি আছে বা যা গমন করে।
- অংহতি– বিশেষ্য, ১ রোগ; ব্যাধি। ২ ত্যাগ; দান। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অংহ + অতি; স্ত্রীলিঙ্গে অংহতী।
- অংহস্– বিশেষ্য, [ক্লীবলিঙ্গ] পাপ; অঘ; অধর্ম; দুষ্কর্ম; অপরাধ; দোষ; পাপজনিত কলুষ; প্রায়শ্চিত্তের দ্বারা যার নিবৃত্তি ঘটে। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত, অম্ + অসুন্; অমের্হুক্চ—উণাদিসূত্র ৪.২১২। টীকা: ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অংহস্ (अंहस्)। উণাদিসূত্র অমের্হুক্চ (৪.২১২) অনুসারে ‘অম্’ ধাতুর সঙ্গে ‘অসুন্’ প্রত্যয়যোগে এবং হুক্ আগমে শব্দটির নিষ্পত্তি। অমতি গচ্ছতি প্রায়শ্চিত্তেন—বাচস্পতি; অর্থাৎ প্রায়শ্চিত্তের দ্বারা যা দূরীভূত হয়, তা অংহস্, অর্থাৎ পাপ। রূপ: রূপ: অংহঃ, অংহসী, অংহাংসি।
- অংহসংঘ– বিশেষ্য, পাপরাশি; পাপসমষ্টি; অপরাধের সমষ্টি; সঞ্চিত পাপ; পাপের ভার; অধর্মজনিত দোষসমূহের সমষ্টি। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অংহস্/অংহ + সংঘ (রাশি, সমষ্টি)। প্রয়োগ: বিশেষ্য, ১ অংহসংঘসংঘটিত ঝটিতি নিবার। – বাসবদত্তা, মদনমোহন তর্কালঙ্কার। টীকা: সংস্কৃত অংহস্ (অংহ), অর্থ পাপ, অঘ বা অধর্ম; এবং সংঘ (संघ), অর্থ সমষ্টি, রাশি বা সমাবেশ। এই দুই পদের সমন্বয়ে অংহসংঘ শব্দের অর্থ পাপের সমষ্টি বা পাপরাশি।
- অংহহর– বিশেষণ, ১ পাপহারক; পাপমোচক; পাপক্ষয়কারী। ২ পাপ থেকে মুক্তিদানকারী; পাপের ফল বা দোষ দূরকারী। ৩ পাবন; পবিত্রকারী; শুচিকর। ৪ কলুষনাশক; অধর্মজনিত দোষের অপনোদক। ৫ [স্ত্রীলিঙ্গ] অংহহরা। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অংহ + হর (√হৃ + অচ্; যে হরণ করে)। প্রয়োগ: ১ অংহহরা অংরূপিণী। – বাসবদত্তা, মদনমোহন তর্কালঙ্কার। টীকা: সংস্কৃত অংহস্ (অংহ), অর্থ পাপ বা অঘ; এবং হর, অর্থ হরণকারী, অপসারণকারী বা দূরকারী। ‘পাপ হরণ করে যে’—এই অর্থে অংহহর শব্দের নিষ্পত্তি। স্ত্রীলিঙ্গে অংহহরা।
- অংহ্রি– বিশেষ্য, ১ চরণ; পাদ; পা। ২ বৃক্ষমূল; গাছের গোড়া। ৩ চার সংখ্যা। ৪ কবিতার চতুর্থাংশ; শ্লোকের এক-চতুর্থাংশ। প্রয়োগ: ১ অংহ্রিযুগ – মদনমোহন তর্কালঙ্কার। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত, অংহ্ (অহি + ক্রিন্); অংহ্ + বি (করণে), যদ্দ্বারা গমন করা যায়; দ্র. অঙ্ঘ্রি। টীকা: সংস্কৃত অংহ্রি। ‘অহি’ ধাতুর সঙ্গে ‘ক্রিন্’ প্রত্যয় এবং গমন করার উপায় বা করণ অর্থে ‘বি’ প্রত্যয়ের ব্যুৎপত্তিগত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। শব্দটির প্রচলিত রূপ অঙ্ঘ্রি; অর্থ পা বা চরণ।
- অংহ্রিপ– বিশেষ্য, বৃক্ষ; যে বৃক্ষ মূলের সাহায্যে মাটি থেকে জল ও পুষ্টিদ্রব্য শোষণ করে। [বাংলায় বিরল]। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত, অংহ্রি (পাদ) + প (√পা, পান করা) + অ, কর্তৃবাচ্যে; অংহ্রির দ্বারা পান করে যে—তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস। টীকা: ‘অংহ্রি’ অর্থ পা বা মূল এবং ‘প’ অর্থ পানকারী। বৃক্ষের মূল মাটি থেকে জল শোষণ করে—এই ধারণা থেকে শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত ব্যাখ্যা করা হয়।
- অংহ্রিস্কন্ধ– বিশেষ্য, গোড়ালি; পায়ের নিম্নপ্রান্তের সন্ধিস্থলবিশেষ। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত, অংহ্রি (চরণ) + স্কন্ধ (গুঁড়ি); অংহ্রির স্কন্ধ—ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। টীকা: সংস্কৃত অংহ্রিস্কন্ধ। ‘অংহ্রি’ অর্থ চরণ বা পা এবং ‘স্কন্ধ’ অর্থ গুঁড়ি, কাণ্ড বা সংযোগস্থল। পায়ের চরণসংলগ্ন সন্ধিস্থল বোঝাতে শব্দটির প্রয়োগ। বাংলায় প্রচল অভাব।
- অঁ– ক্রিয়া-বিভক্তি: কর্তৃবাচ্যে বর্তমান কালে উত্তম পুরুষের বিভক্তিবিশেষ; প্রাচীন বাংলা ও সাধুভাষার ক্রিয়ারূপে বক্তা বা উত্তম পুরুষের একবচন ক্রিয়াপদে ব্যবহৃত। যেমন– “বন্দঁ ব্যাস; বন্দঁ বৈয়াসকী; বন্দঁ পঞ্চানন।” এখানে ‘বন্দঁ’ অর্থ ‘বন্দনা করি’ বা ‘প্রণাম করি’। ‘অঁ’ বিভক্তি উত্তম পুরুষের ক্রিয়াবিভক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আরও দেখুন—ওঁ।
- অঁকোল– বিশেষ্য, আঁকড়গাছ; একপ্রকার বৃক্ষবিশেষ। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অঙ্কোট > অঙ্কোল > অঁকোল।
- অঁটা– বিশেষ্য, হাত; হস্ত। প্রয়োগ: ১ হাত – অঁটা ধরি উঠালেক বাদিয়ার পোকে। – শিবায়ন। ব্যুৎপত্তি: প্রাদেশিক; স্থানভেদে নুলা, নড়া। ড় = ট্, নড়া = নটা = অঁটা। তুলনামূলক হিন্দি অঁটী = মুষ্টি।
- অঁতর– বিশেষ্য, ১ মধ্য; মাঝখান; অন্তর্বর্তী স্থান। ২ মন; অন্তর; হৃদয়। [বৈষ্ণব-সাহিত্যে ব্যবহৃত]। প্রয়োগ: বিশেষ্য, ১ কোই করত সোই; প্রেমক সঙ্গতি; অঁতরে নহত তছু ভঙ্গ – গোবিন্দদাস। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অন্তর; হিন্দি অঁতরা; মৈথিলি আঁতর–মধ্য; বৈষ্ণব-সাহিত্যে।
- অঁধার– বিশেষণ, অন্ধকারময়; তমোময়; ঘন অন্ধকারে আচ্ছন্ন। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অন্ধকার > প্রাকৃত অংধআর, অংধার (প্রাকৃতপৈঙ্গল) > বাংলা অঁধার। প্রয়োগ: বিশেষণ, ১ জামিনি আধ অঁধার। – পদাবলী, বিদ্যাপতি।
- অঁধারী– বিশেষণ, ১ অন্ধকারময়; তমোময়; অন্ধকারাচ্ছন্ন। ২ অঁধারের সমার্থক শব্দ। ব্যুৎপত্তি: বাংলা অঁধার + ঈ (প্রত্যয়)। প্রয়োগ: বিশেষণ, ১ দামিনী আএ তুলাএল হে এক রাতি অঁধারী। – পদাবলী, বিদ্যাপতি।
- অঁধিয়ার– বিশেষণ, অন্ধকারময়; তমোময়; ঘোর অন্ধকারে আচ্ছন্ন। প্রয়োগ: বিশেষণ, ১ অন্ধকার – যামিনি ঘন অঁধিয়ার। – পদাবলী, বিদ্যাপতি।। ২ অন্ধকার – দশ দিশ সবহু ভেল অঁধিয়ার। – পদাবলী, বিদ্যাপতি। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অন্ধকার > প্রাকৃত অন্ধয়ার (সিদ্ধহেম, সঙ্কর পাণ্ডুরঙ্গ পণ্ডিত) > বাংলা অন্ধিয়ার > অঁধিয়ার (য়া > ইআ > ইয়া)।
- অঁধিয়ারা– বিশেষণ, অন্ধকারময়; অন্ধকারাচ্ছন্ন; তিমিরময়; অন্ধকারে আচ্ছন্ন অবস্থা। ব্যুৎপত্তি: বাংলা অঁধিয়ার + আ (প্রত্যয়)। প্রয়োগ: বিশেষণ, ১ নিজ রিপু চাঁদ কলানিধি হেরইতে মেরু পড়ল অঁধিয়ারা। – পদাবলী, বিদ্যাপতি।
- অক১– বিশেষ্য, ১ সুখের বিপরীত; দুঃখ; অশান্তি; ক্লেশ। তুলনীয়: নাক (ন + অক)। প্রয়োগ: “নাকেতে নির্জ্জরগণ করে হাহাকার।” ২ (বহুব্রীহি সমাসে) রোগ; পাপ। [বাংলা প্রচল অভাব] ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত অগ, অঘ, ইংরেজি ache; ন + ক (সুখ), নঞর্থক ‘ন’, বিরোধার্থক।
- অক২– সর্বনাম, এই স্থান; ঐ স্থান; সেই স্থান। প্রয়োগ: সর্বনাম, ১ সেই স্থান – অক ছাড়িয়া রাজা নিজায় (নিজস্থানে) গমন। – মাণিক রাজার গান। ব্যুৎপত্তি: প্রাচীন বাংলা। তুলনামূলক ‘অকু’; অ৫ + ক; কর্মপদ; অপ্রচলিত।
- অক৩– ক্রিয়া, বক্রভাবে গতি করা বা বৃদ্ধি পাওয়া। দ্রষ্টব্য: আঁকাবাঁকা। ব্যুৎপত্তি: অক্, বক্রভাবে গমন করা
- অক৪– বিশেষ্য, ইসলামীয় পুরাণ ও গল্পে বর্ণিত এক বিশালাকায় পক্ষীবিশেষ। তুলনীয়: ব়ক পাখি (আলাদিনের গল্প)। ব্যুৎপত্তি: তুর্কি অক়-বাবা; “a fabulous bird of the vulture kind which lives 1000 years”—Herbelot, উদ্ধৃত Brewer.
- অক্১– (ব্যাকরণ) পাণিনিধৃত চতুর্দশ বর্ণপ্রত্যাহারের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণপ্রত্যাহার। এই প্রত্যাহারের মধ্যে অ ই উ ঋ ঌ (অইউণ্। ঋলৃক্) এই পাঁচটি স্বরবর্ণ গৃহীত হয়েছে। সারসংক্ষেপ: বর্ণগোষ্ঠীকে সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশ করার জন্য প্রাচীন ব্যাকরণে প্রত্যাহার-পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। এই পদ্ধতিতে প্রথম বর্ণ এবং একটি বিশেষ ইত্সংজ্ঞক বর্ণের সাহায্যে একসঙ্গে একাধিক বর্ণকে নির্দেশ করা যায়। পাণিনির স্বরবর্ণসংক্রান্ত প্রথম দুটি মাহেশ্বরসূত্র হলো অইউণ্ (अइउण्) এবং ঋলৃক্ (ऋलृक्)। এই দুটি সূত্রের সাহায্যে গঠিত অক্ (अक्) প্রত্যাহারটি পাঁচটি স্বরবর্ণ—অ, ই, উ, ঋ ও ঌ—নির্দেশ করে। অর্থাৎ, অইউণ্ (अइउण्) থেকে অ, ই ও উ এবং ঋলৃক্ (ऋलृक्) থেকে ঋ ও ঌ স্বরবর্ণ গৃহীত হয়েছে। ইত্সংজ্ঞা অনুসারে, ণ্ (ण्) ও ক্ (क्) বর্ণ দুটি প্রত্যাহারের অন্তর্ভুক্ত হয় না। তাই অক্ (अक्) প্রত্যাহারটি কেবল এই পাঁচটি স্বরবর্ণকে বোঝায়। নিচের চিত্রে অইউণ্ (अइउण्) ও ঋলৃক্ (ऋलृक्) সূত্রের অন্তর্ভুক্ত স্বরবর্ণ এবং তাদের সমষ্টি হিসেবে অক্ (अक्) প্রত্যাহার দেখানো হলো।
চিত্র আসছে…
সংজ্ঞা: অক্ (अक्) [সংস্কৃত] বিশেষ্য। পাণিনির অষ্টাধ্যায়ীর মাহেশ্বরসূত্র অইউণ্ (अइउण्) ও ঋলৃক্ (ऋलृक्) দ্বারা নির্দেশিত পাঁচটি স্বরবর্ণের সমষ্টি—অ, ই, উ, ঋ ও ঌ। পাণিনীয় ব্যাকরণে প্রত্যাহার (प्रत्याहार) বলতে একাধিক বর্ণকে সংক্ষিপ্ত সংকেতের সাহায্যে বোঝানোর পদ্ধতিকে বোঝায়। প্রথম মাহেশ্বরসূত্র অইউণ্ (अइउण्) থেকে অ, ই ও উ এবং দ্বিতীয় সূত্র ঋলৃক্ (ऋलृक्) থেকে ঋ ও ঌ গৃহীত হয়। সূত্র দুটির শেষে থাকা ণ্ (ण्) ও ক্ (क्) ইত্সংজ্ঞক বর্ণ; এগুলি বর্ণসমষ্টির অন্তর্ভুক্ত নয়। অতএব, অক্ (अक्) প্রত্যাহারে অ, ই, উ, ঋ ও ঌ—এই পাঁচটি স্বরবর্ণ রয়েছে। অন্যদিকে, অচ্ (अच्) প্রত্যাহার দ্বারা অ, ই, উ, ঋ, ঌ, এ, ঐ, ও ও ঔ—এই সমস্ত স্বরবর্ণ বোঝানো হয়। ব্যুৎপত্তি ও ব্যবহার: অক্ (अक्) একটি সংস্কৃত ব্যাকরণিক পরিভাষা। পাণিনীয় ব্যাকরণে ইত্সংজ্ঞক বর্ণের (इत्संज्ञा) সাহায্যে প্রত্যাহার গঠিত হয়। এখানে ক্ (क्) একটি ইত্সংজ্ঞক বর্ণ, যা প্রত্যাহারের সীমা নির্দেশ করে; কিন্তু বর্ণসমষ্টির অংশ হিসেবে গণ্য হয় না। বাংলা ভাষায় ‘অক’ শব্দের অন্য অর্থও রয়েছে, যেমন অশান্তি বা দুঃখ। তবে ব্যাকরণে অক্ (अक्) একটি বিশেষ পরিভাষা, যার দ্বারা পাঁচটি স্বরবর্ণের সমষ্টি বোঝানো হয়। উল্লেখ: এখানে অক্ (अक्) শব্দটি বিশেষভাবে পাণিনীয় ব্যাকরণে বর্ণসমষ্টির সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এর অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি স্বরবর্ণ হলো অ, ই, উ, ঋ ও ঌ। সূত্রগ্রন্থ: পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী (अष्टाध्यायी), প্রথম অধ্যায়, প্রথম পাদ; এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ কাশিকা (काशिका) ও মহাভাষ্য (महाभाष्य)। - অক্২– সংস্কৃত প্রত্যয়: (ব্যাকরণ) অক্ [সংস্কৃত अक्] প্রত্যয়বিশেষ। পাণিনীয় ব্যাকরণে নির্দিষ্ট কয়েকটি কৃৎপ্রত্যয়ের স্থানে অক্ আদেশ হয়। যুবোরনাকৌ (পাণিনি ৭.১.১) সূত্র অনুসারে, প্রত্যয়ের যু স্থানে অন্ এবং বু স্থানে অক্ হয়। যেমন— ণ্বুল্, ষ্বুন্, ক্বুন্ ও বুন্ প্রভৃতি প্রত্যয়ের স্থানে অক্ হয়। ণ্বুল্ প্রত্যয়: ধাতুর পরে কর্তৃবাচ্যে ণ্বুল্ ও তৃচ্ প্রত্যয় হয় (ণ্বুল্তৃচৌ, পাণিনি ৩.১.১৩৩)। যেমন— কারকঃ। এখানে ণ্বুল্ প্রত্যয়ের স্থানে অক্ হয়েছে। ষ্বুন্ প্রত্যয়: শিল্প বা কোনো কাজের কৌশল বোঝালে ধাতুর পরে ষ্বুন্ প্রত্যয় হয় (শিল্পিনি ষ্বুন্, পাণিনি ৩.১.১৪৫)। যেমন— নর্তকঃ। নৃত্, খন্ ও রঞ্জ্ ধাতুর পরেও এই প্রত্যয় হয় (নৃতিখনিরঞ্জিভ্য এব)। ক্বুন্ প্রত্যয়: পতঞ্জলির মতে, রঞ্জ্ ধাতুর পরে শিল্প বা কৌশল অর্থে ক্বুন্ প্রত্যয় হয় (রঞ্জেস্ত শিল্পসংজ্ঞয়োরপি ক্বুন্)। যেমন— রঞ্জকঃ। এ ক্ষেত্রে প্রত্যয়ের ন্ লোপ পায়। বুন্ প্রত্যয়: পটুতা বা দক্ষতা বোঝালে প্রু, সৃ ও লু ধাতুর পরে বুন্ প্রত্যয় হয় (প্রুসৃল্বঃ সমভিহারে বুন্, পাণিনি ৩.১.১৪৯)। যেমন— সরকঃ। সমাসবিধি: কর্তৃ-অর্থে অক্ প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস হয় না (তৃজকাভ্যাং কর্তরি, পাণিনি ২.২.১৫)। যেমন— অন্নস্য পাচকঃ, প্রজানাং পালকঃ। এই নিয়মে অন্নপাচকঃ বা প্রজাপালকঃ সমাসবদ্ধ রূপ গ্রহণযোগ্য নয়। তবে ক্রীড়া বা জীবিকা বোঝালে অক্ প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস হয় (নিত্যং ক্রীড়াজীবিকয়োঃ, পাণিনি ২.২.১৭)। যেমন— ক্রীড়াবিশেষের নাম উদ্দালকপুষ্পভঞ্জিকা ও বারণপুষ্পপ্রচয়িকা; জীবিকা অর্থে দস্তলেখকঃ ও নথলেখকঃ। যাজক প্রভৃতি অক্ প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গেও ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস হয় (যাজকাদিভিশ্চ, পাণিনি ২.২.১৯)। যেমন— ব্রাহ্মণযাজকঃ, দেবপূজকঃ। দ্রষ্টব্য— যাজকাদি। স্ত্রীলিঙ্গে রূপান্তর: অক্ প্রত্যয়ান্ত শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ গঠনে আপ্ প্রত্যয় যুক্ত হলে, প্রত্যয়ের ক্-এর ঠিক আগের বর্ণে অকার থাকলে সেই অকার ইকারে পরিবর্তিত হয় (প্রত্যয়স্থাৎ কাৎ পূর্বস্যাত ইদাপ্যসুপঃ, পাণিনি ৭.৩.৪৪)। যেমন— কারক + আ = কারকা; পরে রকারের অকার ইকারে পরিবর্তিত হয়ে কারিকা হয়। এই নিয়ম কেবল অকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; অন্য স্বরবর্ণের ক্ষেত্রে নয়। যেমন— নৌক শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ নৌকা; এখানে ক্-এর আগের ওকার ইকারে পরিবর্তিত হয় না। আবার, সুপ্-বিভক্তির পরে আপ্ প্রত্যয় বিধান হলে এই পরিবর্তন ঘটে না। যেমন— বহুপরিব্রাজিকা নগরী। এখানে প্রথমে ‘বহুবঃ পরিব্রাজকাঃ’ থেকে সমাস গঠনের সময় সুপ্-বিভক্তির লোপ হয়েছে, তারপর স্ত্রীপ্রত্যয় যুক্ত হয়েছে। ফলে নিয়মমতো ইকারাদেশ হয় না। ইকারাদেশের ব্যতিক্রম: পাণিনি ৭.৩.৪৫-এর ন যাসয়োঃ সূত্রের অধীনে কাত্যায়ন কয়েকটি ব্যতিক্রমের কথা বলেছেন। পাচাদি শব্দ: বৈদিক প্রয়োগে পাচ্-জাতীয় শব্দের পরে আপ্ প্রত্যয় হলে পূর্ববর্তী অকার ইকারে পরিবর্তিত হয় না। যেমন— পাচকা হিরণ্যবর্ণা শুচি। অন্য ক্ষেত্রে— পাচিকা। আশীর্বাদ অর্থে: আশীর্বাদসূচক প্রয়োগে ইকারাদেশ হয় না। যেমন— জীবতাদ্ জীবক, জীবকা। উত্তরপদের লোপ হলে: উত্তরপদের লোপ ঘটলে ইকারাদেশ হয় না। যেমন— দেবদত্তিকা; লোপের ফলে দেবকা। জ্যোতিষশাস্ত্রে তারকা: দৃষ্টি বা নক্ষত্র অর্থে তারকা শব্দে ইকারাদেশ হয় না। অন্য অর্থে স্ত্রীলিঙ্গরূপ— তারিকা; যেমন— দাসী অর্থে। পক্ষী অর্থে বর্ত্তকা: পক্ষী বোঝালে প্রাচীন পণ্ডিতদের মতে বর্ত্তকা রূপ হয়। অন্য ক্ষেত্রে— বর্ত্তিকা।
- অক্৩– (ব্যাকরণ) অক্ [সংস্কৃত अक्] কুটিল গতিতে চলা অর্থে ব্যবহৃত ভৃ-প্রত্যয়ান্ত একটি ধাতুরূপ। ধাতুটি ঘটাদিগণের অন্তর্গত। এর রূপ: লট্—অকতি, লিট্—আক, লুঙ্—আকীৎ। ঘটাদিগণের অন্তর্ভুক্ত ধাতুগুলির পরিচয় এবং এই গণের বিশেষ নিয়ম জানতে ঘট্ ধাতু দ্রষ্টব্য।
- অকচ– বিশেষ্য, ১ কেশহীন; কেশশূন্য; ন্যাড়া; টেকো; টাকরোগী। ২ [স্ত্রীলিঙ্গ] অকচা। ৩ [আলঙ্করিক] কেতুগ্রহ। পৌরাণিক ধারণা অনুসারে, কেতু রাহুর ছিন্নদেহ; তার মস্তক নেই বলে তাকে অকচ বলা হয়। ব্যুৎপত্তি: ন = অ (নাই)–কচ (কশ) যার বহুব্রীহি সমাস। ‘অকচ’ শব্দের প্রচলিত ব্যাখ্যায় অ অর্থ অভাব বা না থাকা এবং কচ অর্থ কেশ; অর্থাৎ যার কেশ নেই, সে অকচ। শ্রীযুক্ত তারানাথ তর্কবাচস্পতির মতে, শব্দটির ব্যুৎপত্তি অক-চায়-ড— ‘অকায় লোকোপপ্লবায় চায়তে ইতি অক-চায়-ড (অকচ)।’