অংহ
বিশেষ্য
ব্যুৎপত্তি
সংস্কৃত অংহস্ > প্রাকৃত অংহ > ; অন্হ্ (গমন করা) + অ (দান)–সংজ্ঞার্থে–যদ্বারা অধোগমন ঘটে।
প্রয়োগ
বিশেষ্য
- ১.পাপ – অংহেতে অঙ্কিত অঙ্গ রাখ অঙ্গে করি। – অন্নদামঙ্গল, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ধাতু ও ক্রিয়ারূপ
অংহ (অহি), ভ্বাদি গণ, পরস্মৈপদ ও আত্মনেপদ; অর্থ—গমন করা।
লট্: অংহতে।
লিট্: আনংহে।
লুঙ্: আংহিষ্ট।
সনন্ত রূপ: অঞ্জিহিষতে।
ণিজন্ত রূপ: আঞ্জিহৎ।
উদাহরণ: “আংহিষাতাং রঘুব্যাঘ্রৌ শরভঙ্গাশ্রমং ততঃ।” — ভট্টি।
এখানে আংহিষাতাম্ অর্থ গমন করেছিলেন বা গিয়েছিলেন—দুই রঘুব্যাঘ্র (রাম ও লক্ষ্মণ) শরভঙ্গের আশ্রমে গিয়েছিলেন।
“ইতি ব্রূবাণো মধুরং হিতঞ্চ তমাঞ্জিহৎ মৈথিলযজ্ঞভূমিম্।”
এখানে আঞ্জিহৎ অর্থ গমন করালেন বা নিয়ে গেলেন; অর্থাৎ তাঁকে মিথিলার যজ্ঞভূমিতে নিয়ে গেলেন।
ব্যাকরণ-টীকা
মূল ধাতু অহি (অংহ নয়)। ধাতুটির ইকার ইৎ হওয়ায় নুম্ আগম হয়। পাণিনি ৭.১.৫৮ সূত্র—ইদিতো নুম্ ধাতোঃ—অনুসারে ইদিৎ ধাতুর নুম্ আগম বিধেয়। এ ক্ষেত্রে নুম্-এর নকারের লোপ হয় না বলে কর্মবাচ্যে অংহ্যতে রূপটি সিদ্ধ হয়।
অন্যদিকে, অহি ধাতুর চুরাদি গণীয় প্রয়োগে দীপ্তি বা দীপ্ত হওয়া অর্থে অংহয়তি রূপ পাওয়া যায়।