অক্১

শব্দমান : প্রমিত
রোমান : ok
আইএএসটি : aka
আইপিএ : ɔk
উচ্চারণ : অক
শব্দ শ্রেণী : তৎসম
ভাষা : সংস্কৃত
বিশ্লেষণ : অ + ক্

পাণিনিধৃত চতুর্দশ বর্ণপ্রত্যাহারের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণপ্রত্যাহার। এই প্রত্যাহারের মধ্যে অ ই উ ঋ ঌ (অইউণ্। ঋলৃক্) এই পাঁচটি স্বরবর্ণ গৃহীত হয়েছে।

সারসংক্ষেপ

বর্ণগোষ্ঠীকে সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশ করার জন্য প্রাচীন ব্যাকরণে প্রত্যাহার-পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। এই পদ্ধতিতে প্রথম বর্ণ এবং একটি বিশেষ ইত্সংজ্ঞক বর্ণের সাহায্যে একসঙ্গে একাধিক বর্ণকে নির্দেশ করা যায়। পাণিনির স্বরবর্ণসংক্রান্ত প্রথম দুটি মাহেশ্বরসূত্র হলো অইউণ্ (अइउण्) এবং ঋলৃক্ (ऋलृक्)। এই দুটি সূত্রের সাহায্যে গঠিত অক্ (अक्) প্রত্যাহারটি পাঁচটি স্বরবর্ণ—অ, ই, উ, ঋ ও ঌ—নির্দেশ করে। অর্থাৎ, অইউণ্ (अइउण्) থেকে অ, ই ও উ এবং ঋলৃক্ (ऋलृक्) থেকে ঋ ও ঌ স্বরবর্ণ গৃহীত হয়েছে। ইত্সংজ্ঞা অনুসারে, ণ্ (ण्) ও ক্ (क्) বর্ণ দুটি প্রত্যাহারের অন্তর্ভুক্ত হয় না। তাই অক্ (अक्) প্রত্যাহারটি কেবল এই পাঁচটি স্বরবর্ণকে বোঝায়।

সংজ্ঞা

অক্ (अक्) [সংস্কৃত] বিশেষ্য। পাণিনির অষ্টাধ্যায়ীর মাহেশ্বরসূত্র অইউণ্ (अइउण्) ও ঋলৃক্ (ऋलृक्) দ্বারা নির্দেশিত পাঁচটি স্বরবর্ণের সমষ্টি—অ, ই, উ, ঋ ও ঌ। পাণিনীয় ব্যাকরণে প্রত্যাহার (प्रत्याहार) বলতে একাধিক বর্ণকে সংক্ষিপ্ত সংকেতের সাহায্যে বোঝানোর পদ্ধতিকে বোঝায়।

প্রথম মাহেশ্বরসূত্র অইউণ্ (अइउण्) থেকে অ, ই ও উ এবং দ্বিতীয় সূত্র ঋলৃক্ (ऋलृक्) থেকে ঋ ও ঌ গৃহীত হয়। সূত্র দুটির শেষে থাকা ণ্ (ण्) ও ক্ (क्) ইত্সংজ্ঞক বর্ণ; এগুলি বর্ণসমষ্টির অন্তর্ভুক্ত নয়। অতএব, অক্ (अक्) প্রত্যাহারে অ, ই, উ, ঋ ও ঌ—এই পাঁচটি স্বরবর্ণ রয়েছে।

অন্যদিকে, অচ্ (अच्) প্রত্যাহার দ্বারা অ, ই, উ, ঋ, ঌ, এ, ঐ, ও ও ঔ—এই সমস্ত স্বরবর্ণ বোঝানো হয়।

ব্যুৎপত্তি ও ব্যবহার

অক্ (अक्) একটি সংস্কৃত ব্যাকরণিক পরিভাষা। পাণিনীয় ব্যাকরণে ইত্সংজ্ঞক বর্ণের (इत्संज्ञा) সাহায্যে প্রত্যাহার গঠিত হয়। এখানে ক্ (क्) একটি ইত্সংজ্ঞক বর্ণ, যা প্রত্যাহারের সীমা নির্দেশ করে; কিন্তু বর্ণসমষ্টির অংশ হিসেবে গণ্য হয় না।

বাংলা ভাষায় ‘অক’ শব্দের অন্য অর্থও রয়েছে, যেমন অশান্তি বা দুঃখ। তবে ব্যাকরণে অক্ (अक्) একটি বিশেষ পরিভাষা, যার দ্বারা পাঁচটি স্বরবর্ণের সমষ্টি বোঝানো হয়।

উল্লেখ: এখানে অক্ (अक्) শব্দটি বিশেষভাবে পাণিনীয় ব্যাকরণে বর্ণসমষ্টির সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এর অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি স্বরবর্ণ হলো অ, ই, উ, ঋ ও ঌ।

সূত্রগ্রন্থ: পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী (अष्टाध्यायी), প্রথম অধ্যায়, প্রথম পাদ; এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ কাশিকা (काशिका) ও মহাভাষ্য (महाभाष्य)।

অক্২

শব্দমান : প্রমিত
রোমান : ok
আইএএসটি : ak
আইপিএ : ɔk
উচ্চারণ : অক্
শব্দ শ্রেণী : তৎসম
ভাষা : সংস্কৃত
বিশ্লেষণ : অ + ক্

সংস্কৃত প্রত্যয়

অক্ [সংস্কৃত अक्] প্রত্যয়বিশেষ। পাণিনীয় ব্যাকরণে নির্দিষ্ট কয়েকটি কৃৎপ্রত্যয়ের স্থানে অক্ আদেশ হয়। যুবোরনাকৌ (পাণিনি ৭.১.১) সূত্র অনুসারে, প্রত্যয়ের যু স্থানে অন্ এবং বু স্থানে অক্ হয়। যেমন— ণ্বুল্, ষ্বুন্, ক্বুন্ ও বুন্ প্রভৃতি প্রত্যয়ের স্থানে অক্ হয়।

ণ্বুল্ প্রত্যয়: ধাতুর পরে কর্তৃবাচ্যে ণ্বুল্ ও তৃচ্ প্রত্যয় হয় (ণ্বুল্‌তৃচৌ, পাণিনি ৩.১.১৩৩)। যেমন— কারকঃ। এখানে ণ্বুল্ প্রত্যয়ের স্থানে অক্ হয়েছে।

ষ্বুন্ প্রত্যয়: শিল্প বা কোনো কাজের কৌশল বোঝালে ধাতুর পরে ষ্বুন্ প্রত্যয় হয় (শিল্পিনি ষ্বুন্, পাণিনি ৩.১.১৪৫)। যেমন— নর্তকঃ। নৃত্, খন্ ও রঞ্জ্ ধাতুর পরেও এই প্রত্যয় হয় (নৃতিখনিরঞ্জিভ্য এব)।

ক্বুন্ প্রত্যয়: পতঞ্জলির মতে, রঞ্জ্ ধাতুর পরে শিল্প বা কৌশল অর্থে ক্বুন্ প্রত্যয় হয় (রঞ্জেস্ত শিল্পসংজ্ঞয়োরপি ক্বুন্)। যেমন— রঞ্জকঃ। এ ক্ষেত্রে প্রত্যয়ের ন্ লোপ পায়।

বুন্ প্রত্যয়: পটুতা বা দক্ষতা বোঝালে প্রু, সৃ ও লু ধাতুর পরে বুন্ প্রত্যয় হয় (প্রুসৃল্বঃ সমভিহারে বুন্, পাণিনি ৩.১.১৪৯)। যেমন— সরকঃ।

সমাসবিধি

কর্তৃ-অর্থে অক্ প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস হয় না (তৃজকাভ্যাং কর্তরি, পাণিনি ২.২.১৫)। যেমন— অন্নস্য পাচকঃ, প্রজানাং পালকঃ। এই নিয়মে অন্নপাচকঃ বা প্রজাপালকঃ সমাসবদ্ধ রূপ গ্রহণযোগ্য নয়।

তবে ক্রীড়া বা জীবিকা বোঝালে অক্ প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস হয় (নিত্যং ক্রীড়াজীবিকয়োঃ, পাণিনি ২.২.১৭)। যেমন— ক্রীড়াবিশেষের নাম উদ্দালকপুষ্পভঞ্জিকা ও বারণপুষ্পপ্রচয়িকা; জীবিকা অর্থে দস্তলেখকঃ ও নথলেখকঃ।

যাজক প্রভৃতি অক্ প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গেও ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস হয় (যাজকাদিভিশ্চ, পাণিনি ২.২.১৯)। যেমন— ব্রাহ্মণযাজকঃ, দেবপূজকঃ। দ্রষ্টব্য— যাজকাদি।

স্ত্রীলিঙ্গে রূপান্তর

অক্ প্রত্যয়ান্ত শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ গঠনে আপ্ প্রত্যয় যুক্ত হলে, প্রত্যয়ের ক্-এর ঠিক আগের বর্ণে অকার থাকলে সেই অকার ইকারে পরিবর্তিত হয় (প্রত্যয়স্থাৎ কাৎ পূর্বস্যাত ইদাপ্যসুপঃ, পাণিনি ৭.৩.৪৪)। যেমন— কারক + আ = কারকা; পরে রকারের অকার ইকারে পরিবর্তিত হয়ে কারিকা হয়।

এই নিয়ম কেবল অকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; অন্য স্বরবর্ণের ক্ষেত্রে নয়। যেমন— নৌক শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ নৌকা; এখানে ক্-এর আগের ওকার ইকারে পরিবর্তিত হয় না।

আবার, সুপ্-বিভক্তির পরে আপ্ প্রত্যয় বিধান হলে এই পরিবর্তন ঘটে না। যেমন— বহুপরিব্রাজিকা নগরী। এখানে প্রথমে ‘বহুবঃ পরিব্রাজকাঃ’ থেকে সমাস গঠনের সময় সুপ্-বিভক্তির লোপ হয়েছে, তারপর স্ত্রীপ্রত্যয় যুক্ত হয়েছে। ফলে নিয়মমতো ইকারাদেশ হয় না।

ইকারাদেশের ব্যতিক্রম

পাণিনি ৭.৩.৪৫-এর ন যাসয়োঃ সূত্রের অধীনে কাত্যায়ন কয়েকটি ব্যতিক্রমের কথা বলেছেন।

  1. পাচাদি শব্দ: বৈদিক প্রয়োগে পাচ্-জাতীয় শব্দের পরে আপ্ প্রত্যয় হলে পূর্ববর্তী অকার ইকারে পরিবর্তিত হয় না। যেমন— পাচকা হিরণ্যবর্ণা শুচি। অন্য ক্ষেত্রে— পাচিকা।
  2. আশীর্বাদ অর্থে: আশীর্বাদসূচক প্রয়োগে ইকারাদেশ হয় না। যেমন— জীবতাদ্ জীবক, জীবকা।
  3. উত্তরপদের লোপ হলে: উত্তরপদের লোপ ঘটলে ইকারাদেশ হয় না। যেমন— দেবদত্তিকা; লোপের ফলে দেবকা।
  4. জ্যোতিষশাস্ত্রে তারকা: দৃষ্টি বা নক্ষত্র অর্থে তারকা শব্দে ইকারাদেশ হয় না। অন্য অর্থে স্ত্রীলিঙ্গরূপ— তারিকা; যেমন— দাসী অর্থে।
  5. পক্ষী অর্থে বর্ত্তকা: পক্ষী বোঝালে প্রাচীন পণ্ডিতদের মতে বর্ত্তকা রূপ হয়। অন্য ক্ষেত্রে— বর্ত্তিকা।

অক্৩

শব্দমান : প্রমিত
রোমান : ok
আইএএসটি : ak
আইপিএ : ɔk
উচ্চারণ : অক্
শব্দ শ্রেণী : তৎসম
ভাষা : সংস্কৃত
বিশ্লেষণ : অ + ক্

অক্ [সংস্কৃত अक्] কুটিল গতিতে চলা অর্থে ব্যবহৃত ভৃ-প্রত্যয়ান্ত একটি ধাতুরূপ। ধাতুটি ঘটাদিগণের অন্তর্গত। এর রূপ: লট্—অকতি, লিট্—আক, লুঙ্—আকীৎ।

ঘটাদিগণের অন্তর্ভুক্ত ধাতুগুলির পরিচয় এবং এই গণের বিশেষ নিয়ম জানতে ঘট্ ধাতু দ্রষ্টব্য।