পৌরাণিক
মোট ভুক্তি: ১ টি
- অংশুধর– বিশেষ্য, [পৌরাণিক] সূর্যবংশীয় সগর রাজার পুত্র রাজা অসমঞ্জ। ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত, অংশোঃধরঃ, √ধৃ-অচ্; অংশুর ধারক বা বাহক; অংশুর ধর (ধারণকারী), ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। ভিন্নমতে, অংশু (কিরণ)–ধর (যে ধরে); যিনি অংশু ধারণ করেন–উপপদ সমাস। ব্যুৎপত্তি বিতর্ক: অংশুধর, গঙ্গাধর, ভূধর প্রভৃতি শব্দ উপপদ সমাস নয়, বরং ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। পাণিনির ৩.২.১ সূত্র— ‘কর্মণ্যণ্’ (কর্মণি + অণ্) অনুসারে, কর্মকারকবাচক উপপদ উপস্থিত থাকলে ধাতুর সঙ্গে অণ্ (অ) প্রত্যয় যুক্ত হয়। এখানে ‘কর্মণি’ বলতে কর্মকারকে সপ্তমীবিভক্তিযুক্ত উপপদকে বোঝায় এবং ‘অণ্’ হলো কৃৎপ্রত্যয়। যেমন— কুম্ভকার = কুম্ভ + √কৃ + অণ্; অর্থাৎ যিনি কুম্ভ বা কলস তৈরি করেন। এ প্রসঙ্গে ভট্টোজিদীক্ষিত একটি আপত্তি উত্থাপন করে তার সমাধান দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য— ‘কথং তর্হি গঙ্গাধর-ভূধরাদয়ঃ? কর্মণঃ শেষত্ববিবক্ষায়াং তবিষান্তি।’ অর্থাৎ, উপপদ সমাসে ধাতুর পরে অণ্ প্রত্যয় যুক্ত হলে গঙ্গাধর, ভূধর প্রভৃতি শব্দের রূপসিদ্ধি কিভাবে সম্ভব? অণ্ প্রত্যয় যুক্ত হলে তো শব্দগুলি গঙ্গাধার, ভূধার হওয়ার কথা। এর উত্তরে বলা হয়েছে, এই শব্দগুলিতে কর্মকারক নয়, বরং কর্মবোধক সম্বন্ধের অভিপ্রায় রয়েছে। অর্থাৎ, গঙ্গা বা ভূমিকে ধারণ করার বিষয়টি এখানে কর্মকারকের পরিবর্তে সম্বন্ধরূপে বিবক্ষিত হয়েছে। তাই শব্দগুলি উপপদ সমাস না হয়ে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে নিষ্পন্ন হয়েছে। যেমন— গঙ্গাধর = গঙ্গায়াঃ ধরঃ, অর্থাৎ গঙ্গার ধারক; ভূধর = ভূবঃ ধরঃ, অর্থাৎ ভূমির ধারক।